অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ে বিপাকে মন্ত্রণালয়

0


নতুন সরকারের উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) খাতে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত চাহিদা ৯৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন খাতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়। বাড়তি এই অর্থের চাহিদা নিয়ে জটিলতার মুখে পড়েছে অর্থ বিভাগ।

এদিকে মন্ত্রণালয়গুলোর অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবের মধ্যে সরকারি ব্যয়ের অংশের যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যাচাই-বাছাই করে একটি সুপারিশও দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে জানান, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে চাওয়া উন্নয়ন ব্যয়ের অতিরিক্ত চাহিদা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। চাহিদার যৌক্তিকতা থাকলে সেখানে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের সময়ে প্রাথমিক প্রাক্কলিত উন্নয়ন ব্যয় চলতি বাজেটের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি এই হিসাবের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার চূড়ান্ত করা হবে।’

জুন মাসে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই কাজও শুরু করেছে। এবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির ধারাবহিকতায় দেশজ মোট উৎপাদনের (জিডিপি) হার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৮ শতাংশ। যদিও চলতি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার উন্নয়ন বাজেটকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বেশি। এরমধ্যে রয়েছে আয় বৈষম্য কমানো, দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃজন, মানবসম্পদ উন্নয়ন (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা), কৃষি, শিল্প এবং সেবা। এছাড়া নগর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি উন্নয়ন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, জেন্ডার সমতা, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

উল্লিখিত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের কাছে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। আর প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে প্রাথমিক প্রাক্কলন করা হয়েছে।

আসন্ন বাজেট নতুন সরকারের প্রথম হওয়ায় সেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। যে কারণে চলতি সংশোধিত উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের তুলনায় আগামীতে প্রায় ২২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা বেশি খরচের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আগামীতে তা ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি ব্যয় ধরে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা নতুন সরকারকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে আগামীতে এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। ওই হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার অংশ হচ্ছে ৬৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা- যা সংশোধিত এডিপিতে পরিমাণ হচ্ছে ৫১ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রাক্কলিত এডিপিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ৯ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবকৃত দাবি হচ্ছে ১৪ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বাড়তি চাওয়া হয় ৪ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে ১২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিভাগকে বরাদ্দের প্রাক্কলন করেছে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাদ্দ চেয়েছে ১৭ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের প্রাক্কলন হচ্ছে ৯ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। বিরপীতে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব হল সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাওয়া হয় ১৮শ’ ১৪ কোটি টাকা। প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দের প্রাক্কলন হল ১২শ’ ২০ কোটি টাকা। বিপরীতে মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা বেশি ২ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। কৃষি খাত উন্নয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন হল ১ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, এর বিপরীতে মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়া হয় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা রাখা হয়েছে ২ হাজার ১১১ কোটি টাকা, বিপরীতে মন্ত্রণালয়ের দাবিকৃত প্রস্তাব হচ্ছে ২ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য প্রাক্কলন হচ্ছে ২৭ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, বিপরীতে মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। একইভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ২৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, বিপরীতে তাদের দাবি হচ্ছে ৩১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের সিলিং হচ্ছে ১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, বিপরীতে মন্ত্রণালয়ের দাবি হল ২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here