অ্যালার্জির ১৫টি উৎস যা আগে হয়তো জানতেন না

0


User Rating: 0 ( 0 votes )

অ্যালার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধি। সবাই যখন খাবার, পোষা প্রাণি এবং ধুলা থেকে অ্যালার্জি হওয়ার কথা জানেন তখন এর বাইরেও অ্যালার্জির আরো অনেক বিরল উৎস রয়েছে যার কথা হয়তো অনেকেই শোনেননি।

আমরা অ্যালার্জির এমন ১৫টি উৎস সম্পর্কে তথ্য জানাচ্ছি যা আপনকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে সাহায্য করবে।

১. মুঠোফোন

পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় নাকি মুঠোফোন আমাদের হাত বেঁধে রেখেছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু কল্পনা করুন তো ১ দিন আপনি মুঠোফোন ছাড়া কিভাবে কাটাবেন? কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন পৃথিবীর অনেককেই মুঠোফোন ছাড়া থাকতে হয় এর অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনের জন্য। প্রায় সব আধুনিক মুঠোফোনেই নিকেল অথবা কোবাল্ট ব্যবহার করা হয়, যা অনেকের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাত, কান এবং গালে অ্যালার্জি উঠতে দেখা যায়। যদি আপনারও এমন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে মুঠোফোনে কথা বলার পরিমাণ কমাতে হবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে স্পিকার চালু করে কথা বলবেন।

২. প্যান্টের বোতাম

মুঠোফোনের মতোই প্যান্টের বোতামে রাসায়নিক উপাদান নিকেল উপস্থিত থাকে বলে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক বোতামের সংস্পর্শে এলে চুলকানি এবং জায়গাটি লাল হয়ে ফুলে উঠতে পারে। যদি আপনারও এমন সমস্যা হয়, তাহলে ত্বক এবং বোতামের মাঝে অন্য কাপড় ব্যবহার করুন।

৩. মাংস

সামান্য একটুকরো মাংস খেলেন আর অমনি আপনার নাক দিয়ে পানি ঝরতে শুরু করলো, হাঁচি দিতে দিতে জান বেরিয়ে যাচ্ছে, সারা শরীরে চুলকানি হচ্ছে, এবং আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। কথাগুলো কি মিলে গেলো? তাহলে আপনি মাংসের অ্যালার্জিতে ভুগছেন। এ ব্যাপারে কী করণীয় জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা রাশেদ মাহমুদ খান বলেন, “সাধারণত যাদের গরুর মাংসে অ্যালার্জি আছে তাদের ত্বকে র‌্যাশ চুলকানি ও ফুসকুড়ির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তাদের মাংস না ধরাই উচিত।”

৪. পরাগায়িত খাবার

যদি পরাগায়িত খাবার (যেমন, মধু, আপেল, কিউই, নাশপাতি, এবং আরো অনেক) খাওয়ার সময় হঠাৎ করেই ঠোঁট এবং গলায় জ্বালাপোড়া শুরু হয়, তাহলে আপনি সম্ভবত মুখের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। শিশুদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বড়দেরই এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

৫. সূর্যালোক

সূর্যালোকে অ্যালার্জি হওয়ার মতো দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? এই ধরণের অ্যালার্জিতে আক্রান্তরা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলেই ত্বক লাল হয়ে যায় এবং চুলকাতে শুরু করে। কখনো কখনো কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হয় আবার কখনো কখনো এর কারণই জানা যায় না। যদি দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকে তাহলে ডাক্তার দেখানো জরুরি।

৬. পানি

“অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিকেরিয়া” একটি বিরল রোগ যা হলে আক্রান্ত ব্যক্তি পানির সংস্পর্শে যেতে পারেন না। এই অ্যালার্জিটি পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি হতে দেখা যায়। শরীরে অসংখ্য ফুসকুড়ি, সঙ্গে তীব্র ব্যথার মাধ্যমে এই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৭. ব্যায়াম

শুনতে ব্যায়াম না করার অজুহাতের মতো শোনালেও অ্যানাফিল্যাক্সিস বলে একটি বিষয় আছে। অ্যানাফিল্যাক্সিস হল একটি গুরুতর অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া যা হঠাৎই শুরু হয় এবং মৃত্যুও ঘটাতে পারে। যদি আপনি এই বিরল অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার শরীর খাবার খেতে প্রোটিন শোষণ করতে ব্যর্থ হয়। তাই যখন ব্যায়াম করবেন তখন আপনার তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে এবং শ্বাসকষ্ট হবে, চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, গলা ফোলা, এবং নিম্ন রক্তচাপ ইত্যাদি দেখা দেবে। তাই কার্ডিও ব্যায়ামের পরিবর্তে যোগব্যায়ম করা অনেক বেশি নিরাপদ।

৮. ঘাম

রৌদ্রকরোজ্জল গরমের দিনে ঘাম হওয়া জায়গা যদি র‌্যাশ সৃষ্টি হয়, তাহলে আপনি ঘামের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। এই ধরণের অ্যালার্জিকে “কোলিনার্জিক আর্টিকেরিয়া” বা ছুলি বলা হয়। শরীর ঠাণ্ডা হওয়ার এটি চলে যায়।

৯. প্রসাধনী সামগ্রী

বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী, ক্রিম এবং লোশন ব্যবহারে কয়েক ঘণ্টা পর, এমন কি পরের দিনও অনেকের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। যদি প্রসাধনী সামগ্রীর যে উপদান অ্যালার্জি সৃষ্টি করছে সেই উপাদান সম্পর্কে আপনার ধারণা না থাকে তাহলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখিয়ে নিন। অথবা তার লেখা প্রেস্ক্রিপশন অনুযায়ী প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করুন।

১০. লন্ড্রি ডিটার্জেন্ট

লন্ড্রি ডিটার্জেন্টের কিছু উপদান অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডিটার্জেন্টে ধোয়া কাপড় গায়ে দিতে পারেন না। অনেকে ডিটার্জেন্টে ধোয়া বিছানায় পর্যন্ত শুতে পারেন না।

১১. ঘর পরিষ্কারের সামগ্রী

ডিটার্জেন্টের মতোই ঘর পরিষ্কারের সামগ্রীর কিছু উপাদানে অনেকের অ্যালার্জি থাকে। এই অ্যালার্জিতে আক্রান্তদের শরীরের কোথাও পরিষ্কারক সামগ্রী লাগলে সেই জায়গা লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং র‌্যাশ হয়।

১২. উল

উল এমনিতেই চুলকানি সৃষ্টি করে কিন্তু কিছু কিছু মানুষের উলে অ্যালার্জিই উঠে যায়। ভেড়ার পশম থেকে উৎপাদিত উলে ল্যানোলিন নামক মোমের মতো এক ধরণের উপাদান থাকে যা তাদের সহ্য হয় না। এই উপাদানটি অনেক প্রসাধনী সামগ্রীতেও ব্যবহার হয়। এই উপাদানে যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের উচিৎ হবে প্রসাধনী কেনার সময় এই উপাদানটি তাতে বিদ্যমান কিনা তা যাচাই করে নেওয়া।

১৩. চামড়া

চামড়ার পোশাকেও অনেকের অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। যদি চামড়ার জ্যাকেট গায়ে দিলে আপনার অ্যালার্জি দেখা দেয় তাহলে আপনিও এতে আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়। এজন্য চামড়ার পোশাক কেনার আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার এতে অ্যালার্জি আছে কি না। অন্যথায় এত শখের দামী পোশাকটি দেখতেই হবে, পরতে আর পারবেন না।

১৪. অলঙ্কার

উপরে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে মুঠোফোনের নিকেলে অনেকে অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। একই নিকলে অলঙ্কারেও পাওয়া যায়। যদি কানে দুল, হাতে চুড়ি, গলায় মালা দিলে সংশ্লিষ্ট স্থানে অ্যালার্জি দেখা দেয় তাহলে আপনার উচিৎ হবে চর্মরোগের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। কোন ধরণের ধাতুতে তৈরি অলঙ্কার আপনি পরিধান করতে পারবেন তা তিনি বলে দিতে পারবেন।

১৫. বই

বই-পোকদের জন্য নতুন বইয়ের ঘ্রাণ সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘ্রাণ। কিন্তু আপনার অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে এই ঘ্রাণ নাক বন্ধ করে মাথাব্যথার জন্ম দিতে পারে। আর যদি ধুলোয় অ্যালার্জি থাকে তাহলে বইয়ের ধুলো এড়াতে পড়া বন্ধ না করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। আজকাল তো প্রায় সব বইই ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।

আপনার কি উপরের কোনো অ্যালার্জি আছে? অন্য কোনো কিছুতে অ্যালার্জির কথাও কি আপনার জানা আছে? তাহলে আমাদের জানানোর অনুরোধ করছি।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here