ঈদ নাটকের শুটিং নিয়ে এখন ব্যস্ত নির্মাতা ও কলাকুশলীরা

0


ঈদের নাটক ‘ডায়াবেটিস’ এর একটি দৃশ্যে শামীমা, জামিল, মিঠু, জাহিদ হাসান ও ভাবনা

স্বাধীনতা দিবসের আর বেশি দিন বাকি নেই। দিনটি উপলক্ষে এমনিতেই অনুষ্ঠান সম্পর্কিত প্রতিটি চ্যানেল একটি করে হলেও নাটক প্রচার করে। এবারও হয়তো তার ব্যতিক্রম হবে না।

তবে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবার নাটক নির্মাণের বিষয়টি তেমনভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। এর কারণও আছে। সামনেই রোজার ঈদ। ঈদের মতো বড় উৎসবে অনেক নাটক প্রয়োজন। তাই নির্মাতারা হয়তো স্বাধীনতা দিবসের জন্য নাটক নির্মাণ করে সময় নষ্ট করতে চাননি।

অথবা নির্মাণ করলেও সেটা চ্যানেলে হয়তো প্রচার হতো না। তাই ঈদ নিয়ে ব্যস্ত সব নির্মাতা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। এরই মধ্যে নির্মাতাদের ঈদের নাটকের শুটিংয়ের ব্যস্ততা বেশ লক্ষণীয়।

অনেকেই পুরোদমে ঈদের নাটক নির্মাণ শুরু করেছেন। সম্প্রতি কক্সবাজারে সাগর জাহানের রচনা ও পরিচালনায় একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শুরু হয়েছে।

নাম ‘থ্রি-টু-ওয়ান-জিরো-অ্যাকশন’। গত দুদিন ধরে উত্তরার বিভিন্ন লোকেশন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত নির্মাতারা। এর মধ্যে আপন ঘর শুটিং হাউসে শুভর ‘মেঘের বাড়ি যাব’ নামে একটি নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটি ঈদ উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে বলে নির্মাতা জানান। এতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, জাকিয়া বারী মমসহ অনেকে।

আনন্দবাড়ি শুটিং স্পটে বাবু সিদ্দিকীর একটি ঈদ নাটকের শুটিং চলতে দেখা গেছে। নাটকের নাম ঠিক করা হয়নি। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির ও জোভান।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দীপ্ত টিভির নিজস্ব স্টুডিওতে ‘আইজু ভাই নেতা হতে চায়’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, উর্মিলা শ্রাবন্তী করসহ আরও অনেকে। নাটকটি নির্মাণ করেছেন ফিরোজ কবির ডলার।

কুড়িল তিনশ’ ফিট এলাকায় ‘ডায়াবেটিস’ নামে সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শুরু হয়েছে। এটিও ঈদের নাটক। নাটকটি নির্মাণ করেছেন আদিবাসী মিজান। এতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, ফারুক আহমেদ, ভাবনা, জামিল হোসেনসহ অনেকে।

রাজধানীর অদূরে পূবাইলেও চলছে ঈদ নাটকের শুটিং। সেখানে শামীম জামান চারটি নাটকের শুটিং শেষ করেছেন। নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন শামীম জামান, মামুনুর রশিদ, আখম হাসান, নাদিয়া আহমেদ, প্রমুখ। এ নির্মাতা মালয়েশিয়া থেকে আটটি নাটকের শুটিং করে এসেছেন।

সবক’টি ঈদের জন্য বলে তিনি জানিয়েছেন। নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, জুঁই করিম, নাদিয়া আহমেদ, সাজু খাদেমসহ আরও অনেকে। এদিকে মীর সাব্বির ঈদের জন্য ‘মতলব’ ও ‘মুকুল কলেজ’ নামে একটি ধারাবাহিক এবং একটি খণ্ড নাটক নির্মাণ করেছেন।

এতে অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির, ফারজানা চুমকিসহ অনেকে। সম্প্রতি দার্জিলিং থেকে সতীর্থ রহমান ছয়টি খণ্ড নাটকের শুটিং শেষ করে এসেছেন। নাটকগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন গোলাম ফরিদা ছন্দা। এগুলোও ঈদে প্রচার করা হবে বলে নির্মাতা জানান।

এদিকে নেপাল থেকে কয়েকজন নির্মাতা একাধিক ঈদের নাটকের শুটিং শেষ করে এসেছেন। এর মধ্যে সরদার রোকন ছয়টি খণ্ড নাটকের শুটিং করেছেন।

নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন সজল, নাবিলা ইসলাম, নিলয় আলমগীর, অপর্ণা ঘোষ, শবনম ফারিয়া। সকাল আহমেদ সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক ও একটি খণ্ড নাটকের শুটিং করেছেন। এ দুই নাটকে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, শাহনাজ খুশিসহ অনেকে।

এছাড়াও নেপালে নির্মাতা সাখাওয়াত মানিক, স্বাধীন ফুয়াদ ও আসাদুজ্জামান ঈদের ১২টি খণ্ড নাটকের শুটিং করেছেন বলে জানা গেছে।

এসব নাটকে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর, মৌসুমী হামিদ, শ্যামল মাওলা প্রমুখ। নাট্যনির্মাতা দীপু হাজরাও নেপাল থেকে পাঁচটি খণ্ড নাটকের শুটিং করে দেশে ফিরেছেন। নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন আখম হাসান, এফএস নাঈম, মৌসুমী হামিদ, অর্ষাসহ আরও অনেকে।

রাশেদা আক্তার লাজুক এখন পর্যন্ত ঈদের দুটি খণ্ড নাটকের শুটিং করেছেন। এ নাটকগুলোরও শুটিং হয়েছে নেপালে। নাটক দুটিতে অভিনয় করেছেন সজল, অর্ষা, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে। এদিকে মাবরুর রশীদ বান্নাহ পাঁচটি খণ্ড নাটকের শুটিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেছেন। নাটকগুলোতে অভিনয় করবেন আফরান নিশো ও তানজিন তিশা। শুটিং শেষ করে ২৪ মার্চ দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া দেশে আরও অনেক নাটকের শুটিং চলছে। সালাউদ্দিন লাভলু, এসএ হক অলীক, মিজানুর রহমান আরিয়ান, মাহমুদ দিদার, সাজ্জাদ সুমনসহ অনেক নির্মাতা ঈদের নাটকের কাজ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই ঈদের নাটকের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here