খেলাপি ঋণ আদায়ে গঠন হবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি

0


ব্যাংকিং খাত সংহত করতে খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

আগামী বাজেটে আমরাও এটি করতে চাই। এছাড়া আসন্ন বাজেটে কর্পোরেট কর হার কমানো হবে। এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ বছরে ধাপে ধাপে করা হবে। বীমার আওতায় আনা হবে কৃষকদের। বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক খেলাপি ঋণ আদায় করা যাবে। যেগুলো স্বাভাবিকভাবে আদায় করা কঠিন হবে, সেগুলো আদায়ে এ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হবে। এ কোম্পানি শক্তি খাটিয়ে নয়, নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে ঋণ আদায় করবে। এটি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানও হতে পারে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আমেরিকাতেও রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণের পরিমাণ ৮ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণই ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংবাদিকদের বলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন তিন স্তরে অর্থাৎ ৫, ৭ এবং ১০ শতাংশ হারে হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটিকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের প্রথম বছরেই আমরা ৫০ হাজার মেশিন বসিয়ে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করব। এর সংখ্যা পরে ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আমরা প্রথম বছর ৫০ হাজারের বেশি পারব না। আয়কর ও কর্পোরেট কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, কর্পোরেট কর যতটা সম্ভব কমানো হবে। রাজস্বের প্রধান উৎস ভ্যাট, শুল্ক, আয়কর ও কর্পোরেট কর। তাই রাজস্ব আদায়ের দিকেও নজর রাখতে হবে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে হার কমিয়ে আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা বা সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। যেগুলো যোগ্য বিবেচ্য হবে সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্তি করা হবে। কৃষকের বীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে হাওর অঞ্চলে অতি বন্যার কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়ে। ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী বাজেটেই কৃষকদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ এবারের বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। বেশি জোর দেয়া হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানে। এছাড়া গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে থাকছে বিশেষ পদক্ষেপ। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here