ঘুমের মধ্যে পায়ের পেশিতে অস্বাভাবিক অনুভূতি হলে

0


User Rating: 0 ( 0 votes )

রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ের মাংস লাফায়, কী যেন পিড়পিড় করে হাঁটে, পা ঝাঁকুনি দেয়—এমন অদ্ভুত সব উপসর্গের কথা শুনলে হেসে উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই। এই সমস্যার নাম রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম।

আমাদের আশপাশের অনেক মানুষই এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় অনুভূতির সঠিক প্রকাশটা করে উঠতে পারেন না বা বুঝিয়ে বলতে পারেন না।

রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে রাতে বা বিশ্রামের সময় বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর পায়ের পেশিগুলোতে একধরনের অস্বাভাবিক অনুভূতি হয়। তখন পা নাড়ালে বা পা নাচালে ভালো লাগে। কেউ আরাম পাওয়ার আশায় রাতে উঠে হাঁটতে শুরু করেন, বা হাত দিয়ে পা মালিশ করতে থাকেন, কেউ আবার বাড়ির ছোটদের বলেন পায়ের ওপর বসে গড়াগড়ি খেতে। কারও সত্যি সত্যি ঘুমের মধ্যে পায়ের মাংসপেশি লাফায় বা পা ঝাঁকুনি খায়।

কী করবেন

রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের পেছনে কোনো নিরাময়যোগ্য কারণ থাকলে তার চিকিৎসা করুন। যেমন আয়রনের অভাব থাকলে তা পূরণ করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা বা স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা দূর করা। কিছু সাধারণ জীবনাচরণ পরিবর্তন আরাম দিতে পারে। যেমন রাতে ঘুমানোর আগে হট শাওয়ার বা পায়ের পেশিতে গরম পানির সেঁক দেওয়া, পেশির কিছু ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং, পায়ের ম্যাসাজ, অতিরিক্ত কফি এড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি। স্লিপ ডিসঅর্ডার বা ঘুমের সমস্যা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের একটা বড় কারণ। তাই ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।

যে কারণে ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি দেয়

মাত্রই ঘুমে চোখটা বন্ধ হয়ে এসেছে। হঠাৎই একটা ঝটকা। শরীরটা প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল, যেন মনে হচ্ছে কোথাও পড়ে যাচ্ছিলেন। এটা শুধু আপনার সমস্যা নয়, শরীরের ঝাঁকুনির এমন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন বিশ্বের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ।

ঘুমের মধ্যে এমন ঝাঁকুনিকে ‘হিপনিক জার্কস’ বলা হয়। জেগে থাকা অবস্থা থেকে হঠাৎ ঘুমাতে যাওয়ার অবস্থার মধ্যে এই ‘হিপনিক জার্কস’ ঘটে থাকে। এই সময় মানুষ পুরোপুরি ঘুমের মধ্যে থাকে না। বরং বলা যায়, সে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। এই অবস্থাতেই স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে জাগরণ ও স্বপ্নের সীমানাকে অনেক সময়েই মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না। ফলে তার ধাক্কা এসে লাগে শরীরে। এ থেকেই তৈরি হয় ‘হিপনিক জার্কস’।

ঠিক কেন মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না শরীরের অবস্থা?

আসলে শরীরে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব নেমে এলে মাস্‌ল এবং পেশীগুলো আস্তে আস্তে অবশ হতে থাকে। কিন্তু মস্তিস্ক শরীরে পেশীর এই অবস্থান বুঝে উঠতে না পেরে সেই প্রক্রিয়া আটকানোর চেষ্টা করে, ফলে শারীরে ঝাঁকুনি হয়। যদিও কিছু মানুষ একে শারীরিক অসুবিধা ভেবে ভয় পান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এতে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই।

তবে অনেক সময়ে নাক ডাকা থেকেও ‘হিপনিক জার্কস’ ঘটে থাকে। স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনাপ্রবাহ ঠিকমতো ঠাহর করতে না পারায় এক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি হয়।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here