চমৎকার দিন কাটাতে সুন্দরভাবে সকাল শুরুর ৫টি পরামর্শ

0


User Rating: 0 ( 0 votes )

সকালে ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রে অনেকেরই আলসেমি থাকে। ঘুম ভাঙার পরও বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা হয় না। বিছানায় গড়াগড়ি করতে করতে আরেকটুখানি ঘুমিয়ে নিতে চান অনেকেই। এভাবে সকালটা অগোছালোভাবে শুরু হয়।

কিন্তু পরিকল্পিতভাবে সকাল শুরু করতে পারলে দিনটা চমৎকার কাটতে পারে। যুক্তরাজ্যের মেট্রো অনলাইন এক নিবন্ধে সুন্দরভাবে সকাল শুরুর ৫টি পরামর্শ দিয়েছে। একদম শেষে বোনাস হিসাবে রয়েছে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার ৭টি টিপস।

১. ধাপে ধাপে ঘুম থেকে ওঠা

ঘুম ভাঙার পর বিছানা ছাড়তে যাদের সময় লেগে যায়, তাঁরা ‘টারগেট টাইম’ থেকে ১৫-২০ মিনিট আগে অ্যালার্ম দিন। বাড়তি সময়টুকুতে ধাপে ধাপে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রথমে চোখ খোলা, তারপর বসা, তারপর উঠে পড়া। নিজেকে সে সময় বোঝানো যেতে পারে যে, যেহেতু ঘুম থেকে উঠতেই হবে সেহেতু গড়িমসি না করে উঠে পড়াই ভালো। ঘুম থেকে ওঠার এই পদ্ধতিটি ঘুম ভাঙার প্রক্রিয়াটিকে শান্ত ও ধীরস্থির করতে সহায়তা করবে।

২. সকালে উঠে পানি পান

রাতে ঘুমের মধ্যেও আমাদের শরীর হজমের কাজসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। এতে সকালবেলায় শরীরে পানির ঘাটতি থাকে। ভোরে পরিমাণমতো পানি পান শরীরকে চাঙা ও কর্মক্ষম করে তোলে। তবে একেবারে ভোরে শুধু পানি পানে অনীহা থাকলে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। পানির সঙ্গে ফলের রস মিশিয়ে বা নানা ধরনের শরবত বানিয়ে রেখে তা পান করা যেতে পারে।

৩. টেলিভিশনকে না

ঘুম থেকে উঠেই টেলিভিশনের সামনে বসা অনেকের অভ্যাস। কেউ হয়তো ভাবেন, সকাল সকাল খবরের শিরোনাম জেনে রাখা দরকার। সেটি করা যেতে পারে অফিস কিংবা মূল কাজ শুরুর আগের সময়টিতে। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পরপরই টেলিভিশনের সামনে বসলে মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে। টেলিভিশনের নানা খবরাখবর আপনার মনকে অস্থির করে তুলতে পারে। সকালবেলায় এটা মোটেই কাম্য নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজের প্রস্তুতি নিতে সারা দিনের একটি ছক তৈরি করুন মনে মনে। কিংবা কোনো ভাবনাচিন্তা ছাড়া বারান্দায়, ছাদে কিংবা বাড়ির কাছের খোলা জায়গায় ৫-১০ মিনিট সময় কাটান হেঁটে বেড়িয়ে।

৪. গোসল

সকালে গোসল করার অভ্যাস মনকে সতেজ করে। ঘুমের কারণে অবিন্যস্ত চুল হয় পরিপাটি। ত্বকে আসে নমনীয়তা। গোসলে ত্বক-উপযোগী সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। সকালে গোসলের অভ্যাস কাজের উদ্যম বাড়ায়, শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে, বিষণ্নতা কমায়।

৫. সকালের নাশতা

অনেকেই সকালের নাশতাকে হালকা খাবার হিসেবে বিবেচনা করে অবহেলা করেন। অথচ দুপুরের খাবারের আগেই সাধারণত বেশি পরিশ্রম করা হয়ে থাকে। সেহেতু সকালের নাশতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাশতা হতে হবে পর্যাপ্ত। যত তাড়াহুড়োই থাকুক, রুটিন করে সকালের নাশতা সারতে হবে। আর সকালে সময়মতো নাশতা না করা নানা রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে

বোনাস: ভোরে ওঠা

যারা নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠতে চান, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ থাকছে এখানে—

১. রাত জেগে টেলিভিশন দেখার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। এমনকি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ ইন্টারনেটের রাতজাগা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

২. শোয়ার ঘর থেকে কম্পিউটার বা মুঠোফোন দূরে রাখুন।

৩. ঠিকমতো ঘুমানোর জন্য ঘরের পরিবেশও ঠিক রাখা প্রয়োজন। ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা থাকলে ঠিকমতো ঘুমানো যাবে।

৪. রাতের খাবার আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ঘুমাতে যান।

৫. একজন সুস্থ মানুষের জন্য আট ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। তাই সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়লে অনেক সকালেই ঘুম থেকে ওঠা যাবে।

৬. সকালে ওঠার অভ্যাস করার জন্য অ্যালার্ম ঘড়ি রাখতে পারেন শোয়ার ঘরে। তবে ঘড়িটা অবশ্যই খাট থেকে খানিকটা দূরে রাখুন, যাতে করে সেটা বাজলে উঠে গিয়ে বন্ধ করতে হয়।

৭. সকালে ওঠার অভ্যাসের শুরুতেই বড়সড় পরিবর্তন না করে সময় নিয়ে অভ্যাস করুন। প্রথম দিকে নিয়মিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে ওঠার চেষ্টা করুন। এর কয়েক দিন পরে আবার ১৫ মিনিট এগিয়ে নিন। এভাবে ওঠার চেষ্টা করলে সেটা সহজেই অভ্যাসে রূপ নেবে।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here