জামালপুরে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা

0


ব্রিটিশ আমল থেকে সুদীর্ঘ প্রায় ২০০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। প্রতি বছর ১ চৈত্র থেকে শুরু হয়ে এর মূল আয়োজন চলে ৩ চৈত্র পর্যন্ত। শনিবার (১৬ মার্চ) সকালে জামালপুরে সদর উপজেলার পূর্ব এলাকার ৭ নং ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের গোপালপুর বাজারে শুরু হলো এই মেলা। তাই পূর্বাঞ্চলের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

মেলা উপলক্ষে বাঁশচড়া, লক্ষ্মীরচর, নান্দিনা, নরুন্দি ও ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল গোপালপুরের মেয়ে ও জামাতাকে দাওয়াত দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ সময় এখানকার মেয়েরা বাবার বাড়ি ও জামাতারা শ্বশুরবাড়িতে একত্র হন। সেজন্য এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত।

জামালপুরে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলামেলায় রয়েছে পুতুলনাচ, নাগরদোলা ও লাঠি খেলা। মিষ্টি-মন্ডার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে চমচম, গোল্লা, সন্দেশ, মুড়ি-মুড়কি, ঝুরি, বাতাসা, কদমা, নৈ-টানা ও সাজ। শিশুদের জন্য আছে বিভিন্ন প্রকার খেলনা।

আগামী ১৮ মার্চ মূল মেলা শেষ হলেও ঘর-গৃহস্থের যাবতীয় ফার্নিচার ও আসবাবপত্র থাকবে আরও ১৫ দিন। এর মধ্যে রয়েছে লোহার তৈরি দা, বটি, খুন্তি, কুড়াল, কাস্তে ও ছেনি। প্রসাধন সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য, পোশাক, মৃৎশিল্প, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, বেঁতের তৈরি ডালা, ডাকি, দাঁড়িপাল্লা, বাঁশের তৈরি চালুন, খালই, ধারাই, ডুলি; তালের পাতার তৈরি হাতপাখা, শীতল পাটি; সিসা ও মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিলসহ গৃহস্থের বাড়ির সব ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বিপুল সমারোহ দেখা যাচ্ছে মেলায়। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় তরকারি বেগুন, আলু, করলা, তরমুজ ও সাজনাসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ ও শাক-সবজি তো আছেই।

জামালপুরে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলাজানা যায়, ব্রিটিশ আমলে গোপালপুর বাজারে একটি বিরাট বটবৃক্ষ ছিল। এর নিচে বারুনি স্নান উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের জমায়েত হতো সেখানে। এ উপলক্ষে সেখানে মেলা বসতো। সেই থেকে হিন্দুদের পাশাপাশি এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ও সেখানে মেলা আয়োজন শুরু করে। সেই থেকে মুসলিমরা গোপালপুর মেলাকে ইসলামি মেলা নাম দিয়ে ১ চৈত্র এর আয়োজন করে আসছেন। তবে যুগ যুগ ধরে একটি ধর্মের ওপর এই মেলা সীমাবদ্ধ নেই। এখন মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গোপালপুর মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত।

জামালপুরে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলাউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার ৭ নং ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দ্বীন আমিন, মেলা কমিটির সভাপতি ও ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেলসহ এলাকাবাসী।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here