‘দুর্ঘটনা ঘটলেই কারখানা গোডাউন বন্ধ সমাধান নয়’

0


দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই ভবিষ্যতে নিমতলী ও চকবাজারের ট্রাজেডির মতো ঘটনা এড়ানো যাবে। কোনও একটি দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কারখানা গোডাউন বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

শনিবার ১৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত ‘চকবাজার ট্র্যাজেডি ও ফলোআপ’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে, রাজউক এবং সিটি করপোরেশনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় তাহলেই ভবিষ্যতে নিমতলী ও চকবাজারের ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা এড়ানো যাবে। কোনও একটি দুর্ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে কারখানা গোডাউন বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। পুরান ঢাকা থেকে অবৈধ ব্যবসার অপসারণ এবং নগরকে নিরাপদ করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে একটি সেল গঠন করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আমাদের রাষ্ট্র নিমতলী ও চকবাজারের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করছে না। আমি মনে করি, ক্ষতিপূরণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কিন্তু একইসঙ্গে যারা এসব ঘৃণ্য ও মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নাকের ডগায় আমরা অবৈধ ব্যবসা করতে পারি না। কিন্তু তারপরও অবৈধ পারফিউম ও কেমিক্যাল-এর ব্যবসা চলছে। যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধে সিটি করপোরেশন ও বিস্ফোরক অধিদফতর কোনও পদক্ষেপ না নেয় তাহলে এই সিটি করপোরেশন এবং বিস্ফোরক অধিদফতরের দরকার নেই। নগরকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার জন্য সরকার কিংবা কর্তৃপক্ষ নাগরিক সমাজকে যুক্ত করতে পারে।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নিমতলী ও চকবাজারের ঘটনার বড় কারণ হলো কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়া। এই ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের সকলের, নাগরিক সমাজের, গণমাধ্যমের। আমাদের সংসদীয় কমিটিগুলো যদি নিমতলীর ঘটনার পর নিয়মিত ফলো-আপ করতো তাহলে হয়তো চকবাজারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমাদের সমাজের জবাবদিহিতা খুবই কম। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। একইসঙ্গে জবাবদিহিতা তৈরিতে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারছে না। কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অভাবের কারণে নিমতলী ও চকবাজারের ঘটনা ঘটে এবং এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনে’র জাতীয় কমিটির সদস্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুজন নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, নগর পরিকল্পনাবিদ রিয়াজ উদ্দিন, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস প্রমুখ।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here