নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা

0


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ প্রায় ৫০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এর মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি আহত ও দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্বেগের বিষয়, ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠের পাশেই আন-নূর মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত তারা হামলার ৫ মিনিট পরে সেখানে পৌঁছার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

জানা যায়, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি হ্যাগলি ওভাল মাঠেই হওয়ার কথা ছিল। জুমার নামাজের আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলন করে নামাজের পর ম্যাচটিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময় থেকে দেরিতে শেষ হওয়ায় ক্রিকেটাররা দেরিতে মসজিতে পৌঁছান এবং হামলার মুখে পড়া থেকে বেঁচে যান। পাশাপাশি লিনউড নামের আরেকটি মসজিদেও হামলা হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়া মুসল্লিদের সন্ত্রাসীরা টার্গেট করেছে ধর্ম-বর্ণবিদ্বেষ থেকে এবং বেশি আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য। আমরা মনে করি, যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার।

আশার কথা, নিউজিল্যান্ড পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীদের চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ও কিছু বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী দিনটিকে ‘সবচেয়ে কালো দিন’ এবং নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করে নিউজিল্যান্ডে এমন কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তশিষ্ট হিসেবে পরিচিত দেশে এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা সত্যিকারার্থেই নজিরবিহীন এবং এক্ষেত্রে বিশ্বের সব দেশকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হতে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।

৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর ইউরোপ-আমেরিকায় মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব ও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সব ধর্মের সাধারণ মানুষকেই টার্গেট করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সন্ত্রাসীকে ধর্ম-বর্ণ দিয়ে বিবেচনার পরিবর্তে কেবল সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতে হবে।

হামলাকারী মুসলিম হলে সন্ত্রাসী, অন্য ধর্মের হলে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’- এমন নীতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে বাধ্য।

মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে দিনদুপুরে হামলার শিকার হয়ে এতগুলো মানুষের প্রাণহানি হৃদয়বিদারক। পৃথিবীর অনেক দেশেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এক্ষেত্রে সচেতনতামূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি নজরদারি ও আগাম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমরা বর্তমানে উগ্র চরমপন্থীদের হুমকির মুখে রয়েছেন। এর আগে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্যান্য দেশেও মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডে জঘন্যতম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটিতে অস্ট্রেলিয়ার একজন নাগরিকও জড়িত ছিলেন, এমনকি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাকে চরমপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে অনুমান করা যায়, এটি একটি মুসলিম-বিদ্বেষী ও বহুজাতিক চক্রান্তের সন্ত্রাসী হামলা।

এক নারী ও তিন পুরুষসহ হামলাকারী সন্দেহে আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার মূলহোতাদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। এ দুঃসময়ে সবাই নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের পাশে দাঁড়াবে এবং যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগাযোগ-সংহতি সুদৃঢ় করে ঘৃণা-বিদ্বেষ দূর করার উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here