পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’য়ের ঘটনা ফাঁসকারীকে গুলি করে হত্যা

0


পাকিস্তানে পরিবারের সম্মান রক্ষার খাতিরে ‘অনার কিলিংয়ে’র ঘটনা প্রকাশের কাজে অগ্রণী ভূমিকায় থাকা ব্যক্তি আফজাল কোহিস্তানিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাকে অ্যাবোটাবাদে দুর্বৃত্তের গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সাত বছর আগে তিনি অনার কিলিংয়ের বিষয়ে দেশটির মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর অ্যাবোটাবাদে ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় আফজালকে গুলি করা হয়। তিনি বেশ কিছু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

২০১২ সালে প্রত্যন্ত কোহিস্তান জেলার স্থানীয় রীতি ভাঙা প্রথম পাকিস্তানিদের একজন হিসেবে জনগণের সামনে আসেন আফজাল। এলাকাটিতে পরিবারের সম্মান রক্ষায় নিয়ম ভঙ্গকারীকে অন্য সদস্যদের সম্মতিতেই হত্যা করা হতো।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রতি বছর পাকিস্তানে প্রায় এক হাজার নারী তাদের আত্মীয় দ্বারা অনার কিলিংয়ের শিকার হন। বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে এমন হত্যার শিকার পুরুষের সংখ্যা অনেক কম।

অনার কিলিংয়ের রীতি অনুসারে, আইনভঙ্গকারী সন্দেহভাজন নারীর পরিবারের পুরুষেরা প্রথমে ওই নারীকে হত্যা করবে এবং পরে নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত পুরুষকেও হত্যা করা হবে। এক্ষেত্রে পুরুষের পরিবার এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে না।

২০১১ সালের একটি বিয়ের ভিডিও পাকিস্তানবাসীর নজরে আনেন আফজাল। ২০১২ সালে ভিডিওটি প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন ওই বিয়ের পাত্র-পাত্রীকে অনার কিলিংয়ের নামে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওতে নাচতে থাকা তার দুই ছোট ভাইয়ের জীবনও হুমকির মুখে। এরপরই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনলে তদন্ত শুরু হয়। তবে তদন্তে ওই নারীকে অনার কিলিংয়ের নামে হত্যার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিহত নারীর পরিবারের তিন সদস্য দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী জীবিত।

ঐতিহ্য ভেঙে অনার কিলিংয়ের বিষয়টি প্রকাশ করার পর রক্ষণশীল কোহিস্তানে তার পরিবার ও নিহত নারীর পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০১৩ সালে ওই নারীর পরিবারের ছয় সদস্য আফজালের তিন বড় ভাইকে হত্যা করে। এই হত্যা মামলা কোহিস্তানের জন্য চাঞ্চল্যকর হলেও ২০১৭ সালে হাই কোর্টে আসামিরা বেকসুর খালাস পায়।

বিরোধের জের ধরে আফজালের বাড়িতে আগুনবোমা নিক্ষেপ ও গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি থামেননি। বাড়ি বদলে ওই নারীর পরিণতির বিষয়ে পুলিশ ও আদালতের কাছে ধর্ণা দিতে থাকেন। মনোযোগ আকর্ষণ করে সংবাদমাধ্যমের। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের জুলাই মাসে সুপ্রিম নতুন করে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এতে নিহত নারীর পরিবারের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

সম্প্রতি বিবিসি উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবন হুমকির মুখে থাকার জানিয়েছিলেন আফজাল। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও অ্যাবোটাবাদে স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ওই নারীর হত্যাকারীরা তাকে হুমকি দিয়েছে।

 



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here