বনসাই বাগান করে সবুজের সাফল্য

0


বৃক্ষপ্রেমীরা সবসময়ই বলে থাকেন গাছ প্রকৃতির অন্যতম সেরা ও সুন্দর সৃষ্টি। পৃথিবীকে বাসযোগ্য, সবুজ ও শীতল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গাছ।

গাছের বর্ণনা সহজেই শেষ করা যায় না। গাছ পছন্দ করেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। বৃক্ষপ্রেমীদের এমনই একটি গবেষণার ফল হচ্ছে বনসাই। রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় বনসাই বাগান করে সফল হয়েছেন কেএম সবুজ। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ২০০ প্রজাতির প্রায় ৩ হাজার বনসাই।

তিল তিল করে তিনি গড়ে তুলেছেন এ বনসাই বাগান। বিশাল এলাকা নিয়ে তার এ বনসাই বাগান। তার বাগানে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা দামেরও বনসাই গাছ রয়েছে। এসব বনসাই রাখা হয়েছে তার বাগানে। কেএম সবুজের বাগানে রয়েছে ৩০ বছরেরও বেশি বয়সের একটি বনসাই আমবট গাছ।

যার উচ্চতা প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট। টবে রাখা বয়স্ক এ আমবটের বনসাই গাছটি হাতের তালুতে নিয়ে উঁচু করা যায় সহজেই। এ বনসাইটির দাম উঠেছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

তার এ বাগানে রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ প্রজাতির বট গাছ। যার মধ্যে আমবট, কাঁঠালিবট, কৃষ্ণবট, চায়নাবট, রাবারবট ও পাকরবটও রয়েছে। এছাড়া রয়েছে মহুয়া, তমাল, কামিনী, বিলশ, ছাতিম, হিজল, বাবলা, জিলাপি, গোল্ডেনপান্ডা, ক্যালেন্ডা, জগডুমুর, বইচি, সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, ঝুমুরসহ আম, জাম, কাঁঠাল ও করমচা গাছ।

এ বিষয়ে বৃক্ষপ্রেমী সবুজ যুগান্তরকে জানান, প্রকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বনসাই বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। ২৫ বছর ধরে তিনি বনসাই নিয়ে গবেষণা করছেন।

অল্প জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির অনেক বনসাই গাছ রাখা যায়। অনেক বছর বয়সের বনসাই ঘরের ভেতর ও অফিসের টেবিলসহ বিভিন্ন স্থানে রাখা যায়। এতে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে তিনি সিলেট যান। সেখানে এক নার্সারি বাগানে একটি বনসাই দেখেন। এ থেকে তার আগ্রহ জন্মায় টবের মধ্যে এত বছর বয়সের গাছ কীভাবে বেঁচে আছে।

তখনই ১শ’ টাকা দিয়ে চারটি তেঁতুল গাছ কিনেন। ওই চারটি গাছ দিয়ে তিনি বনসাই বাগান শুরু করেন। সব মিলিয়ে তার গার্ডেনে বনসাই আছে দুই হাজারের বেশি। বর্তমানে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। সখের বসে তিনি এটা শুরু করেন। পরে সফলতা মুখ দেখে ২০০৯ সাল থেকে এটাকে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেন।

বাগান দেখাশোনার জন্য বেতন দিয়ে ৪ জন লোক রাখা হয়েছে। বনসাই বিক্রি করে কেএম সবুজ প্রতি মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন। বিদেশেও বনসাই রফতানি করছেন তিনি। সবুজ বলেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে- তারা মালয়েশিয়ায় ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই গাছ নেবে।

এরই মধ্যে কিছু গাছ মালয়েশিয়ার পাঠানো হয়েছে। এসব বনসাই রফতানি করতে অনেক ঝামেলা হয়। সরকার যদি সহজ পদ্ধতিতে বনসাই রফতানির সুযোগ করে দেয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব।

কীভাবে বনসাই করবেন : প্রথমে একটি চারাগাছ বনসাইয়ের কোন স্টাইল বা মডেল দিতে চান তা নির্বাচন করতে হবে। এবার গাছের গোড়া মোটা করার জন্য চারাগাছের পাতা ফাল্গ–ন বা বর্ষার শুরুতে ফেলে দিতে হবে।

এরপর যখন নতুন পাতা গজিয়ে এক ইঞ্চি হবে তখন গাছটিকে মাটি থেকে তুলে ধুয়ে পরিষ্কার করে কিছু সময় রোদে শুকাতে হবে। পরে গাছের মূল শিকড় এক ইঞ্চি পরিমাণ রেখে কেটে ফেলুন।

পরে তামার তার দিয়ে মূলের শেষ প্রান্তে প্যাঁচিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিন। বড় টবে প্রচুর সার দিয়ে রোপণ করুন।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here