বাংলাদেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষি: কৃষিমন্ত্রী

0


দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রধান উৎস কৃষির উন্নয়নে সরকার যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন হালনাগাদ করেছে। ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য কৃষি রূপান্তর, বহুমুখীকরণ, বাজারজাতকরণ এবং ভ্যালু অ্যাড ও ভ্যালু চেইন অপরিহার্য। বাংলাদেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষি; খোরপোষের কৃষি নয়।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বুধবার (৬ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন,  ‘বর্তমান অবস্থায় জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের উৎপাদন জরুরি। হালনাগাদ কৃষি নীতিটিতে বায়োটেকনোলজিতে গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি আজ কৃষকের একার চিন্তার বিষয় নয়। কৃষির প্রশ্নে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারক যেমন কাজ করছেন, তেমনি সক্রিয় অবদান রাখছে বেসরকারি খাতও। বিজ্ঞান ও গবেষণা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চিন্তা। বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য কৃষি গবেষণার কোনও বিকল্প নেই।’

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আধুনিক জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার জিএমওসহ কৃষি রূপান্তর ও হাইব্রিড জাত নিয়ে এসেছে। আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আমাদের কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এতে তারা আর্থিক সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এজন্য কৃষিপণ্যের সঠিক বাজারজাত করা অপরিহার্য। অনেক ফসল রয়েছে, যেমন– আমাদের চাহিদার চেয়ে ৩০ লাখ টন আলু বেশি উৎপন্ন হয়; যার মাত্র এক লাখ টন রফতানি করা যাচ্ছে। বাকি উদ্বৃত্তাংশের উৎপাদন খরচ ওঠাতে পারছেন না কৃষক। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে কৃষি বিপ্লবের কোনও বিকল্প নেই।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে উদ্ভাবিত “বিটি বেগুন” কৃষক-ভোক্তা সবাই গ্রহণ করেছে। এটির উৎপাদন ভালো এবং বেশ লাভজনক। কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাত নিয়ে বিরোধিতা করছেন। তারা কোনও তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কথা বলছেন। এসব ফসলে কোনও ক্ষতিকর কিছু নেই। আমাদের কৃষকরা এসব উন্নত জাতের স্বত্ব হারাবেন বলে যেকথা বলা হচ্ছে তাও সঠিক নয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে ও ভবিষ্যৎ খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করতে হবে। নতুন জাত যেন পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা আরও ভালো ভালো টেকনোলজি সম্পৃক্ত করবো। সমালোচনা থাকবে, তার মধ্যেই কাজ করে যেতে হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল রোধে আমাদের আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। খাদ্য ভেজাল রোধে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। ভেজাল রোধে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ল্যাব ও বিভাগীয় শহরে একটি করে ল্যাব স্থাপন করা হবে, যাতে করে দ্রুততার সঙ্গে ভেজাল শনাক্ত করা যায়।’ 

অতিরিক্ত সচিব জনাব ড. মো. আবদুর রৌফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ( বারি ) মহাপরিচালক জনাব ড. মো. আবুল কালাম আযাদ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here