বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়: চীনা রাষ্ট্রদূত

0


বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জ্যাং জো। শনিবার (১৬ মার্চ) ঢাকা চেম্বার কার্যালয়ে আয়োজিত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জ্যাং জো বলেন, ‘সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং এ খাতের যথাযথ বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি এই খাতের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো একান্ত অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, সম্প্রতি চীন সরকার সেদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এ সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের চীনে বিনিয়োগের জন্য তিনি আহ্বান জানান।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এই অঞ্চলে উচ্চমানের পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চীন সরকারের গৃহীত ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বৃহৎ প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও বিনিয়োগে চীন বৃহত্তম অংশীদার। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে এ খাতের নতুন প্রকল্পগুলোকে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, চীনের ২০০টি বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ২০০টির মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাও এ দেশে বিনিয়োগ করেছে। চীন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যকার সহযোগিতা বাড়ানো, সম্ভাবনাময় খাতে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ সম্প্রসারণে ঢাকা চেম্বার একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’
তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করেছে এবং আশা করা যায়, সামনের দিনগুলোতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চীন সারা পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা গ্রহণের জন্য বাংলাদশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য চীনের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশ প্রতিবছর চীনে মাছ ও হিমায়িত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, শাক-সবজি, টেক্সটাইল ফাইবার্স, পেপার ইয়ার্ন, ওভেন ফেব্রিক্স, ইলেকট্রিকাল মেশিনারিজ, আসবাবপত্র প্রভৃতি পণ্য রফতানি করে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, চীন ও আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ‘লুক ইস্ট’ নীতিমালা গ্রহণ করেছে। তিনি তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং এ খাতসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে চীনের বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ‘শুল্ক ও কোটামুক্ত’ সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আন্দালিব হাসান, আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, নূহের লতিফ খান, শামস মাহমুদ, এস এম জিল্লুর রহমান এবং চীনা দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর এলভি ইয়াং উপস্থিত ছিলেন।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here