বিদেশি দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাল্টে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডে

0


‘শান্তির দেশ’ নিউজিল্যান্ড, অন্তত শুক্রবারের আগে এই বিশেষণ লাগানো হতো তাসমান সাগরের ওপারের দ্বীপ দেশটির গায়ে। নিরাপত্তা নিয়ে তারা ভাবতো না বললেই চলে। তবে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বৃষ্টির মতো ছোঁড়া গুলিতে রক্তের সাগর বয়ে যাওয়ার লোমহর্ষক ঘটনার পর সব ওলটপালট। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন শঙ্কিত এই দেশটি।

একটুর জন্য প্রাণে বেঁচেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। জুমার নামাজ আদায় করতে যেতে দেরি না হলে মর্মান্তির ট্র্যাজেডির শিকার হতেন তামিম-মুশফিকরাও। তারা রক্ষা পেলেও নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছে বিষয়টি নিয়ে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে ‘সবকিছু পাল্টে যাচ্ছে।’

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে অন্য কোনও দেশ যায় না বিদেশে খেলতে। নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গেও ছিল না কোনও নিরাপত্তারক্ষী। যদিও হোয়াইট জানিয়েছেন, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর তাদের দেশে সফরে আসা ক্রীড়াঙ্গনের সব দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাল্টে যাচ্ছে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘এটা কঠিন ধাক্কার। আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজনের সব কাঠানো এখন পাল্টে যাবে। আমার মনে হয় এখন সব বদলে যাবে। আমাদের নিশ্চিতভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গভীরভাবে দেখতে হবে। নিউজিল্যান্ড নিরাপদ স্বর্গ বলে যে ধারণা ছিল, আমার মনে হয় সেটা আর নেই।’

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাথা ব্যথা ছিল না কখনোই। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলগুলোকেও তারা দেখভাল করেছে একইভাবে। তবে ক্রাইস্টচার্চে অস্ত্রধারীর হামলায় নিরীহ মানুষের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি পাল্টে ফেলার কথা শুনিয়েছেন হোয়াইট।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৪৯ জন ইসলাম ধর্মালম্বী নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। হামলার স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে ছিল তামিম-মুশফিকদের বাস। তৃতীয় টেস্টের ভেন্যু হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে আল নূর মসজিদে শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে সন্ত্রাসী হামলা হয়।

অনুশীলন শেষে ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন দলের কয়েকজন। সেখানে তারা একটু আগে মসজিদে ঢুকলেই ঘটে যেতে পারতো স্মরণকালের নৃশংসতম ঘটনা। সংবাদ সম্মেলনের জন্য মসজিদে যেতে দেরি হওয়াতেই মূলত বেঁচে গেছেন মুশফিক-তামিমরা। মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তে স্থানীয় এক নারী বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সতর্ক করেন গোলাগুলির কথা জানিয়ে। আতঙ্কিত খেলোয়াড়েরা তখন দৌড়ে হ্যাগলি ওভালে ফেরত আসেন। ওখান থেকে বাংলাদেশ দলকে বিশেষ নিরাপত্তায় নভোটেল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্রিকইনফো



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here