মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়তে মাস্টারপ্ল্যান চাইলেন শেখ তন্ময়

0


 

মাদকের কবল থেকে দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষায় মাস্টারপ্ল্যান চাইলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়। তরুণ সমাজের জন্য মাদককে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পাঁচ কোটি তরুণের এককোটি মাদকাসক্ত। এই তরুণ সমাজকে মাদকাসক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে একটি পলিসি দরকার, মাস্টারপ্ল্যান দরকার। আশা করি, সবাইকে নিয়ে এই মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। আমরা সবাই এর সঙ্গে থাকতে চাই।’

বুধবার (৬ মার্চ) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ তন্ময় সংসদে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক ও কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থান নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। টক-শো’তে অনেকে জ্ঞান দিয়ে থাকেন। বিরোধী দলের দিক থেকেও কথা বলা হয়। দেশের ৫ কোটি তরুণের এককোটি মাদকের সঙ্গে জড়িত, মাদকাসক্ত হয়ে আছে। যারা মাদক ব্যবসা করে, তাদের নরমভাবে দেখলে হবে না। যারা সেবনকারী, তারা তো আমাদেরই সমাজের, আমাদেরই ভাই। তাদের নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে প্রশিক্ষণ দিয়ে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। সেজন্য আমাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান দরকার।’

নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে তন্ময় বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মকে থেকে রাজপথে নেমে আসতে দেখা যায়। আন্দোলন-মিছিল-সংগ্রাম আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমাদের স্বাধীনতাও এই আন্দোলন-সংগ্রামের হাত ধরে এসেছে। এই আন্দোলন-সংগ্রামকে স্বাগত জানাই। তবে এই আন্দোলকে কেন্দ্র করে যখন তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার দেখি, তখন খুবই খারাপ লাগে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল এজ-এ বড় হয়েছি। আমরা বই খুব কম পড়ি। বেশিরভাগ সময় ল্যাপটপ ও আইফোনে কাটাই। তথ্যপ্রযুক্তিকে আমরা যেভাবে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারি, ঠিক এর নেতিবাচক ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে। একটি অশুভ শক্তি বাংলাদেশে রয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তিকে খারাপভাবে ব্যবহার করে তরুণদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাদের মধ্যে সরকারবিরোধী একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়; যার প্রভাব আমরা বিভিন্ন আন্দোলনের সময় দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বন্দুক-পিস্তল নিয়ে যতটা ক্রাইম হচ্ছে, তার থেকে বড় ক্রাইম কিন্তু সাইবার জগতে চলছে। ৬০-৬৫ শতাংশ ভোটার এখন আমাদের বয়সী। তাদের চাহিদাটা বুঝতে হবে। যারা বিপথে চলে গেছে, তাদের ফেরত নিয়ে আসতে হবে। এই প্রজন্মকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে ওই সময়কার তরুণ প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আমরা আজকের নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের পক্ষে কাজ করে যেতে পারি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে পারি।’

 



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here