যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি মাদুরোর খোলা চিঠি

0


যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ আর আগ্রাসনের বিপদ সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে সচেতন করতেই তিনি ওই চিঠি লিখতে প্ররোচিত হয়েছেন। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের যুগ থেকে ভেনেজুয়েলায় ‘সর্বব্যাপী উন্নয়ন ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র’ বিকশিত হচ্ছে উল্লেখ করে মাদুরো চিঠিতে দাবি করেছেন, আগ্রাসনকে জায়েজ করতে ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্র থাকার অভিযোগের মতো করেই তার দেশের নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ বানচালের অভিযোগ এনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যের ভয়েই বর্তমান মার্কিন নেতৃত্ব সংলাপে অনাগ্রহী কিনা। বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য চিঠির সংক্ষেপিত ভাষ্য তুলে ধরা হলো। 

মাদুরোর চিঠি

কোনও বিষয়ে আমার যদি সামান্যতম জানাশোনা থাকে, তো সেটা হলো ‘মানুষ’। আপনাদের মতো সাধারণ মানুষ যারা; আমি তাদেরই প্রতিনিধি। কারাকাসের এক দরিদ্র প্রতিবেশে আমার জন্ম আর বেড়ে ওঠা। বৈষম্য আর বিভেদে জর্জরিত ভেনেজুয়েলার গণসংগ্রাম আর শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমার বিকাশ। অনেক ধন-সম্পদের মালিক নই আমি। যুক্তি আর হৃদয় আমার কাজের মাধ্যম। সর্বব্যাপী উন্নয়ন আর সামাজিক সাম্যের আদর্শকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক নতুন ভেনেজুয়েলা পরিচালনার অনন্য সুযোগ আজ আমার হাতে; সিমন বলিভারের [সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে একাধিক স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী] প্রেরণায় কমান্ডার হুগো চাভেজ ১৯৯৮ সালে যে ভেনেজুয়েলার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আত্মসচেতনতাহীন এক ঐতিহাসিকতার মধ্যে রয়েছি আমরা। বিরাজমান সময়েই যুদ্ধ আর শান্তির মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে আমাদের গন্তব্য। জাতি হিসেবে আপনাদের প্রতিনিধিত্বকারীরা ভিয়েতনামে যে ঘৃণাবাদী বিদ্বেষের বীজ বুনেছিল, সেটাকেই আজ তারা ফিরিয়ে আনতে চাইছে নিজেদের সীমান্তে। তখনকার মতোই গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার নামে আজ তারা ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ আর আগ্রাসন চালাতে চাইছে। তবে আজকের প্রেক্ষাপট সেদিন থেকে ভিন্ন। ভেনেজুয়েলার ওপর ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগের মতোই নির্জলা মিথ্যা। এই মিথ্যা আমাদের গোটা অঞ্চলের জন্য এক অভাবনীয় পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে।
জনপ্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের পরিসীমা প্রসারিত হয়েছিল যার মধ্য দিয়ে, ভেনেজুয়েলা পরিচালিত হয় সেই ১৯৯৯ সালের সংবিধান অনুযায়ী। অভাবনীয় ব্যাপার হলো, আমরা বিগত ২০ বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকারী দেশগুলোর একটি। আমাদের মতাদর্শ আপনাদের পছন্দ নাও হতে পারে, আমাদের কর্মকাণ্ড ভালো নাও লাগতে পারে, তবে সংখ্যায় আমরা লক্ষ-কোটি আর আমাদের এই সক্ষমতা ইতিহাসে বাস্তব।
হোয়াইট হাউসের একাংশ থেকে ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের যে ফন্দি আঁটা হচ্ছে, তার ঝুঁকি ও তাৎপর্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতেই আমি লিখতে বসেছি। এটা [আগ্রাসনের পদক্ষেপ] কেবল আমার দেশকে নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। ভেনেজুয়েলার স্বার্থে কারিকমের [মাদুরোকে সমর্থনকারী ২০ ক্যারিবীয় দেশের জোট] সমর্থন নিয়ে উরুগুয়ে আর মেক্সিকো সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সংলাপের যে মহৎ প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও তা বানচালের চেষ্টা করছেন। আমরা জানি, ভেনেজুয়েলার মঙ্গলের স্বার্থেই আমাদের আলোচনায় বসা উচিত। কেননা, সংলাপ প্রত্যাখ্যানের আরেক অর্থ ক্ষমতা প্রদর্শন। জন এফ কেনেডি যেমনটা বলেছিলেন, ‘ভয় পেয়ে যেন সমঝোতা না করি। আবার সমঝোতাকে যেন ভয় না পাই।’ মাদুরো প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যারা সংলাপ চাইছে না, তারা কি সত্য নিয়ে ভীত?’



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here