‘রোহিঙ্গাদের কষ্ট যায় না, কমে আর বাড়ে’

0


বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে  রোহিঙ্গা শিবিরের অনেক ঝুপড়ি ঘরে বৃষ্টি পানির ঢুকে পড়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। রোহিঙ্গারা বলছেন, তাদের কষ্ট কখনও যায় না, কমে আর বাড়ে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, ‘বজ্রমেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধির ফলে কক্সবাজারের উপকূলে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারের ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।’

এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতে উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিতদের জীবনযাত্রা অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বৃষ্টির ফলে অনেক ঘরের ভেতরে জমেছে কাদাপানি। পিচ্ছিল রাস্তায় হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে শতাধিক ঘরের ত্রিপল উড়িয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ছবি: টেকনাফ প্রতিনিধি)

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি (নেতা) মোহাম্মদ জাবের বলেন, ‘সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির হচ্ছে কুতুপালং। এ শিবিরে অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে যা ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। ওইসব পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও তা হয়নি।’

উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাত হলে ত্রিপল পেরিয়ে ঝুপড়ি ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পরে। কেননা আমরা যে জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি, সেটি পাহাড়ের পাদদেশ লাগোয়া। ভারী বৃষ্টিতে একটি ব্লকে ১০টির বেশি ঝুপড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘরগুলো খুবই দুর্বল। ফলে বৃষ্টির পানি সহজেই ঢুকে পড়ে। তাছাড়া শিবিরের রাস্তাগুলো মাটির হওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হয়।’রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ছবি: টেকনাফ প্রতিনিধি)

টেকনাফ জাদিমুড়া শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান রমিদা বেগম বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কষ্ট কখনও যায় না, কমে আর বাড়ে। ভারী বৃষ্টি হলে কষ্ট বাড়ে। ঠিক তেমনি গরম বাড়লেও কষ্ট বাড়ে। এছাড়া সামান্য বাতাসে নড়াচড়া করে এসব ঝুপড়িঘর। ওপর থেকে নিচের দিকে পানি নামলে ঘর স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। তাই বৃষ্টি হলে রাতে না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়। আমোদের রোহিঙ্গা শিবিরটি পুরো পাহাড়ের পাদদেশে। এতে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কাও থাকে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘ভারী বষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শিবিরে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেব্যাপারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।’রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ছবি: টেকনাফ প্রতিনিধি)

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ফলে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পুরনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। উখিয়া ও টেকনাফের সারি সারি পাহাড় ও বন কেটে বসতি গড়েছে রোহিঙ্গারা। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া টেংখালী, মধুরছড়া, শূন্যরেখা এবং টেকনাফের পুটুবনিয়া, শালবাগান, জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসতি রোহিঙ্গাদের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here