সাঁতারু জুয়েলের স্বপ্নে টোকিও অলিম্পিক

0


কুষ্টিয়ার আমলায় ছোটবেলায় অনেককে দেখতেন সাঁতার কাটতে। তাদের দেখে সাঁতারের প্রতি আগ্রহ জাগে জুয়েল আহমেদের মনে। ছোট চাচার হাত ধরে তার সাঁতার শেখা শুরু।

একদিন স্থানীয় কোচ ইমদাদুল হকের মাধ্যমে ঢাকায় জাতীয় বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন জুয়েল। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনেক পথ পেরিয়ে আজ তিনি দেশের সেরা সাঁতারু। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সাঁতারে পাঁচটি ইভেন্টে রেকর্ড সহ সোনা জিতেছেন, পেয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা সাঁতারুর পুরস্কার।

২৫ বছর বয়সী জুয়েলের এখন একটাই লক্ষ্য, টোকিও অলিম্পিকে নিজ যোগ্যতায় অংশগ্রহণ। কাজটা অবশ্য ভীষণ কঠিন। আগামী জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজুতে হবে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ব সাঁতার সংস্থা ফিনার বেঁধে দেওয়া টাইমিং স্পর্শ করতে পারলে ২০২০ অলিম্পিকে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিজের স্বপ্ন নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে জুয়েল বলেছেন, ‘জাতীয় প্রতিযোগিতায় সেরা সাঁতারু হয়েছি। এখন আমি টোকিও অলিম্পিকে খেলতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন। অলিম্পিকে খেলার জন্য আমাকে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে হবে। সেখানে ভালো করতেই হবে আমাকে। সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আর আমি পরিশ্রম করতে প্রস্তুত।’

নিজ যোগ্যতায় টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে চান তিনি২০০৩ সালে জাতীয় বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারেননি। তবে পরের বছর থেকে একাধিক ইভেন্টে পেয়েছিলেন শিরোপা। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় পাঁচবার পেয়েছেন সেরা সাঁতারুর সম্মান। জাতীয় প্রতিযোগিতায় ২০১২ সালে প্রথম অংশ নিয়েই জিতে নিয়েছিলেন ৬টি সোনা। জাতীয় পর্যায়ে তার স্বর্ণপদক ৩০টি। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এসএ গেমসে অংশ নিয়েছেন একবারই, ২০১৬ সালে। ভারতের শিলং-গৌহাটি থেকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন পাঁচটি ব্রোঞ্জ।

এবারের জাতীয় প্রতিযোগিতায় জুয়েলের দুর্দান্ত সাফল্যের কারণ কী? সেনাবাহিনীর এই সাঁতারু জানালেন, ‘প্রতিযোগিতার আগে পাঁচ মাস কঠোর পরিশ্রম করেছি, কোচ মাহবুবুর রহমান শাহীনের অধীনে অনুশীলন করেছি। আর সেটাই কাজে লেগেছে। সাফল্যের ব্যাপারে আমি নিজেও আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।’

এই জায়গায় আসার পেছনে ছোট চাচার পাশাপাশি বাবা শাহজাহান আলীর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন জুয়েল, ‘আমার শুরুটা হয়েছিল ছোট চাচার হাত ধরে। তারপর বাবা উৎসাহ দিয়েছেন। আমি যতগুলো জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি, প্রতিটিতে বাবা উপস্থিত ছিলেন। এবার অবশ্য অসুস্থতার জন্য ঢাকায় আসতে পারেননি। আমি যেন ভালো সাঁতারু হতে পারি সেই চেষ্টা সবসময় করেছেন তিনি।’



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here