সাতদিনে সব শেষ রিয়ালের

0


স্পেনের শীর্ষস্থানীয় সব ক্রীড়া দৈনিকের প্রায় অভিন্ন শিরোনাম- ‘ঐতিহাসিক লজ্জা’, ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বিপর্যয়’, ‘ঐতিহাসিক ব্যর্থতা’, ‘অভাবনীয় পতন’। সব শিরোনামেরই আগে-পরে রিয়াল মাদ্রিদের নাম। কারণটা এতক্ষণে জেনে গেছেন সবাই। প্রথম লেগে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে ঘরের মাঠে ফিরতি ম্যাচে ৪-১ গোলের হার। সেটাও আবার আয়াক্সের মতো মাঝারিমানের দলের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে গত তিনবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের অভাবনীয় বিদায়ে স্তম্ভিত গোটা স্পেন। রিয়ালের জন্য এই ধাক্কা কী ভয়ংকর, তা ডিফেন্ডার দানি কারভাহালের কথায় স্পষ্ট, ‘সাতদিনে সব হারালাম আমরা।’

হু্যাঁ, এ মৌসুমে রিয়ালের আর কিছুই রইল না। এক সপ্তাহের মহাবিপর্যয়ে শেষের আগেই শেষ হয়ে গেল তাদের মৌসুম। গত বুধবার বার্সেলোনার কাছে হেরে কোপা দেল রে’র সেমিফাইনাল থেকে বিদায়। শনিবার ফের বার্সার কাছে হেরে লিগ শিরোপার আশাও কার্যত শেষ। বার্নাব্যুতে টানা দুটি এল ক্লাসিকো হেরে টালমাটাল রিয়ালের কফিনে মঙ্গলবার শেষ পেরেকে ঠুকে দিয়েছে আয়ান্স। শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে রিয়ালকে তাদেরই মাঠে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ডাচ ক্লাব।

এক হাজার দিনের বেশি সময় উইরোপসেরার মুকুট ধরে রাখার পর এমন বিদায় রিয়ালের জন্য ঐতিহাসিক লজ্জাই বটে। সেই বিপর্যয়ে আবার ঘটল ক্লাবের ১১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঠিক আগের রাতে। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে এটি রিয়ালের টানা চতুর্থ হার। এমন বিপর্যয় সর্বশেষ ঘটেছিল ২০০৪ সালে। আর এবারের আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে রিয়াল সর্বশেষ বিদায় নিয়েছিল ২০০৯-১০ মৌসুমে। সেটি ছিল বার্নাব্যুতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অভিষেক মৌসুম।

রোনাল্ডোর বিদায়ের পর প্রথম মৌসুমেই ফিরে এলো সব হারানোর সেই দুঃস্মৃতি। রিয়ালের অবিশ্বাস্য পতনের পর নতুন করে সবাই জিনেদিনের দূরদৃষ্টির প্রশংসায় মেতেছেন! আড়াই বছরে দলকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে আচমকা কেন রিয়ালের কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন জিদান, এখন তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। রিয়ালের পতনের ঘণ্টা তখনই শুনতে পেয়েছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি।

জিদানের অধীনে গত দুই মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৪টি ম্যাচ হেরেছিল রিয়াল। সেখানে চলতি মৌসুমে দুই কোচের অধীনে এরই মধ্যে ১৪ ম্যাচ হেরেছে তারা। গত পরশু আয়াক্সের কাছে ৪-১ গোলের হার ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে রিয়ালের সবচেয়ে বড় হার। ২৫ বছর পর কোনো ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগ জেতার পরও পরের রাউন্ডে যেতে ব্যর্থ হল স্পেন ও ইউরোপের সফলতম দলটি।

১৯৯৫ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আয়াক্স তারুণ্যে আস্থা রেখে ফিরিয়ে আনল জোহান ক্রুয়েফ যুগের সোনালি অতীতের স্মৃতি। আয়াক্সের মাঠে প্রথম লেগ জেতার পর কোয়ার্টার ফাইনাল যেন নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল রিয়াল। শেষ আটে খেলতে যেন সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রথম লেগে ইচ্ছাকৃতভাবে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখেছিলেন রিয়াল অধিনায়ক সের্গিও রামোস।

অতি চালাকির মাশুল গুনে পরে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়েছে তাকে। আরও বড় শাস্তি পেলেন অমঙ্গলের রাতে। গ্যালারিতে বসে অসহায় দর্শকের মতো দেখলেন দলের বিদায়। রামোস থাকলে হয়তো শুরুতেই এভাবে ভেঙে পড়ত না রিয়ালের নড়বড়ে রক্ষণ। আয়াক্স মরণকামড় দিয়েছে শুরুতেই। ১৮ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করে বসে রিয়াল। সাত মিনিটে হেমিক জিয়েখ ও ১৮ মিনিটে ডেভিড নেরেস স্বাগতিকদের জাল কাঁপান। দুটি গোলই নিজেদের ভুলে হজম করে রিয়াল।

প্রথমার্ধে দু’বার পোস্ট কাঁপিয়ে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় সান্তিয়াগো সোলারির দল। ৬২ মিনিটে আসরে নিজের ষষ্ঠ গোলে ব্যবধান ৩-০ করে রিয়ালের জন্য সমকীকরণ আরও কঠিন করে তোলেন দুসান তাদিচ। ৭০ মিনিটে মার্কো আসেনসিও একটি গোল ফিরিয়ে দিলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি রিয়াল। ৭২ মিনিটে রিয়ালের বুকে শেষ ছুরিটা চালান স্কোনি। ইনজুরি টাইমে নাচোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ হয় রিয়ালের। এরপরও সান্তিয়াগো সোলারি কোচের আসনে বহাল থাকলে সেটা হবে আরেক বিস্ময়!

আরেক ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও ঘরের মাঠে ১-০ গেলে হেরেছে টটেনহ্যামের কাছে। হ্যারি কেনের দেয়া একমাত্র গোলে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা টটেনহ্যাম দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলের অগ্রগামিতায় পা রাখল শেষ আটে।

আয়াক্স ৪ : ১ রিয়াল মাদ্রিদ

(দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে জয়ী আয়াক্স)

টটেনহ্যাম ১ : ০ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

(দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে জয়ী টটেনহ্যাম)



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here