সেই অস্ট্রেলীয় সিনেটরের মাথায় ডিম ভেঙে মার খেলো প্রতিবাদী কিশোর

0


অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম মেরেছে এক শ্বেতাঙ্গ কিশোর। এর জবাবে তাৎক্ষণিক ঘুরে দাঁড়িয়ে কিশোরটিকে আঘাত করেন অ্যানিং। এই সিনেটরই নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনার দায় চাপিয়েছিলেন মুসলিম অভিবাসননীতির ওপরে। তার দাবি, মুসলিমরা নিউ জিল্যান্ডে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিল বলেই সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, মাথায় ডিম মারার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহতের ঘটনায় কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং লিখেছিলেন, ‘সবসময়ের মতো এই ঘটনার পরেও বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও সংবাদ মাধ্যমগুলো দায় চাপাবে অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ আইন বা জাতীয়তাবাদী আদর্শের সমর্থকদের ওপর। কিন্তু এর সবই অসত্য চর্বিতচর্বণ।’ মুসলিম অভিবাসনকে এই সহিংসতার উৎস হিসেবে দায়ী করে ডানপন্থী এই সিনেটের প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এরপরও কি মুসলিম অভিবাসন ও সহিংসতার মধ্যে যোগসূত্র থাকা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকে?’ তার এই বক্তব্যের পর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমালোচনায় মুখ খুলেছেন।
শনিবার (১৬ মার্চ) ফ্রেসার অ্যানিং মেলবোর্নে গিয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে। সেখানে তিনি যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তার পাশে দাঁড়িয়েছিল এক কিশোর। কিছুক্ষণ পর সে নিজে তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সিনেটরের মাথায় একটি ডিম মেরে দেয়। ক্ষুব্ধ সিনেটর ঘুরে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক কিশোরটিকে আঘাত করতে থাকেন। অন্তত একটি চড় কিশোরটির মাথায় লাগে। ইতোমধ্যে অ্যানিংয়ের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা তাকে কিশোরটির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান।
অ্যানিংয়ের সমর্থকদের একজন উচ্চকণ্ঠে বলেন, ভালো না লাগলে সেখান থেকে চলে যেতে। আরেকজন কিশোরটির ঘাড় ধরে রাখেন খুব জোরে। পরে পুলিশ এসে কিশোরটিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর অ্যানিংয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া প্রতিবাদকারীদের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ তরুণরাই এখন হাল ধরতে শুরু করেছে।’ আর অ্যানিং মন্তব্য করেছেন, ‘সে পাগল প্রকৃতির।’
শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। এদের একটি শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক দীন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আল নূর মসজিদ। আরেকটি মসজিদ লিনউডে অবস্থিত। দেশটির পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৯ জনে। এদের মধ্যে আল নূর মসজিদেই নিহত হয়েছেন ৪১ জন। আর বাকিরা প্রাণ হারিয়েছেন লিনউডের মসজিদে।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here