স্ক্যানার মেশিনে ধরা পড়ল পিস্তল আটক ১

0


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘোষণা ছাড়াই অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করার অভিযোগে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের চেয়ারম্যানের দেহরক্ষী নুরুল ইসলামকে আটক করেছে এভিয়েশন নিরাপত্তা সংস্থা এভসেক।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরের স্ক্যানার মেশিনে অস্ত্রটি ধরা পড়ার পর নুরুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সধারী। ঘোষণা দেয়ার জন্য তিনি ভেতরে প্রবেশ করছিলেন বলেও জানান।

শনিবার বিকালে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে যশোর যাওয়ার জন্য তিনি বিমানবন্দরে যান। তবে বিমানবন্দরের হেভি লাগেজ গেটের স্ক্যানার মেশিনে অস্ত্রটি ধরা পড়ে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার আবদুল্লাহ আল ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিয়ম না মেনে ঘোষণা ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করায় নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে খেলনা পিস্তল নিয়ে পলাশ নামে এক যাত্রী বিমানে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সংশ্লিষ্টরা। খেলনা পিস্তল হোক আর বৈধ পিস্তল হোক, কিভাবে সেটি বিমান পর্যন্ত উঠল। তাছাড়া কিভাবে পলাশের খেলনা পিস্তলটি বিমানবন্দরের একাধিক স্ক্যানার মেশিনকে ফাঁকি দিয়েছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা।

এ ঘটনার পরপরই চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বৈধ পিস্তল স্ক্যানার মেশিনে ধরা না পড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে গত ১১ মার্চ স্ক্যানার মেশিনে ধরা পড়ার পর ঘোষণা ছাড়াই অস্ত্র নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের অভিযোগে যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেলহাজতে পাঠানো হলে পরবর্তীতে তিনি জামিনে ছাড়া পান।

এদিকে ঘোষণা ছাড়া কোনো যাত্রী অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে ঘোষণা দেয়ার পর থেকে এ নিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনার পর দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।

৪ দোকান উচ্ছেদ

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে ৪টি দোকান উচ্ছেদ করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। তবে ‘রহস্যজনক’ কারণে দুটি দোকান উচ্ছেদ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একটির নাম অ্যারোজ, অপরটির নাম প্রিমিয়াম সুইটস।

শাহজালালে বর্তমানে অ্যারোজের মালিকানাধীন ৬টি দোকান রয়েছে। উচ্ছেদ করা দোকানগুলোর মধ্যে ক্রিস্ট্রি ক্রিমের ১টি, ফ্রেয়ার ট্রেডের ২টি ও আওরঙ্গজেবের ১টি রয়েছে।

শনিবার সকালে প্রথমে এ দোকানগুলোর বিদ্যুৎ, পানিসহ অন্যান্য লাইন কেটে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের লোকজন এসে দোকানের মালামাল জব্দ করে দোকান বন্ধ করে দেয়।

ফেয়ার ট্রেডের মালিক জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তারা বৈধভাবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দোকানগুলো বরাদ্দ নিয়েছেন। প্রথম দফায় ১ বছরের জন্য দোকান বরাদ্দ পান। পরবর্তীতে চুক্তি আরও ১ বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রতি বর্গফুট ১১শ’ টাকা হিসাবে তার ৮০ বর্গফুটের ২টি দোকান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হকের নেতৃত্বে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ একটি টিম অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পরিদর্শনে আসে। এ সময় সচিব সব দোকানের মালিককে ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

যাওয়ার সময় তিনি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে ৪টি দোকান উচ্ছেদের নির্দেশনা দেন। জাকির হোসেন বলেন, দুটি দোকানে তার ৬০ লাখ টাকার বেশি মালামাল ছিল। কোনো ধরনের নোটিশ দেয়া ছাড়াই তার দুটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ ঘটনার অভিযোগে তিনি আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here