১৭ বছর ১২ তলা নিজস্ব ভবন পাচ্ছে বিটিআরসি

0


বিটিআরসি ভবনের নকশা

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর ১২ তলা নিজস্ব ভবন পেতে যাচ্ছে। আগামীকাল বুধবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আগারগাঁওয়ে এ ভবন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এর আগে ১০ জানুয়ারি দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। এর পর থেকে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ভবন নির্মাণে খরচ হবে ২১৯ কোটি টাকা। ভবনটিতে ১২ তলা হলেও এর ফাউন্ডেশন হবে ১৫ তলা।

যদিও ভবন নির্মাণের জন্য ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে জমি বরাদ্দ দেয়। তবে জমি বরাদ্দেরও ১১ বছর পর আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বিটিআরসি ভবন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ৩১ জানুয়ারি ৪১ জন জনবল নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গঠিত হয়। গঠনের পর নিজস্ব ভবন না থাকায় সংস্থাটির ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের তিনটি ফ্লোর ভাড়া করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ও ভাড়া বাবদ প্রতিবছর ১১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক কাজ, সীমানা প্রাচীর, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ৩৯ হাজার ৫২১ বর্গমিটার ৩টি বেইজমেন্ট ও একটি সেমি-বেইজমেন্টসহ ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ভবন নির্মাণের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় এক একর জমি বরাদ্দ পায়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ১৮ তলা ফাউন্ডেশন ও তিনটি বেসমেন্টসহ ১৩ তলা ভবন নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। প্রথম অবস্থায় প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২২১ কোটি টাকা প্রাক্কলন করে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) উপর অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে ভবনটির উচ্চতা নির্ধারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তপক্ষের ছাড়পত্র সংগ্রহ, স্থাপত্য নকশা আরও আধুনিক মানের করা সম্ভব কিনা এবং চূড়ান্ত স্থাপত্য নকশায় ভবনের প্রস্তাবিত ৪০০ সিটের হল রুমটি টপ ফ্লোরে না রেখে গ্রাউন্ড বা প্রথম ফ্লোরে সংস্থান রেখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ডিপিপি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিটিআরসি ভবনের উচ্চতা নির্ধারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রে উচ্চতা সীমা ১৫০ ফুট নির্ধারণ করায় বর্তমানে ভবটি ১৩ তলার পরিবর্তে ১২ তলা নির্মাণের সংস্থান রেখে স্থাপত্য অধিদপ্তর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে জন্য প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠন করেছে। এতে চুড়ান্ত পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়ায় ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আইইবি (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ) ভবনের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলা তিন বছরের জন্য ভাড়া নেয় বিটিআরসি। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য ভাড়ার চুক্তি হয়। এ সময় আগের চেয়ে ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে অফিসের ভাড়া প্রতি বর্গফুট ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা এবং বেসমেন্টের ভাড়া ১৭ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

চুক্তিতে এক বছর অন্তর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়। আইইবির নতুন কমিটি ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাড়িভাড়া ১০ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫৭তম কমিশন সভার অনুমোদনক্রমে বিটিআরসি ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে অফিসের জন্য প্রতি বর্গফুট ৩৯ টাকা ৭৪ পয়সা এবং বেসমেন্টের জন্য ১৮ টাকা ৬৩ পয়সা হারে ভাড়া পরিশোধ করে আসছে।

এর পর আইইবি আবারও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলে বিটিআরসি ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরে আইইবির সঙ্গে আলোচনায় ৮ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে বিটিআরসি কার্যালয়ের ভাড়া দাঁড়ায় অফিসের জন্য প্রতি বর্গফুট ৪২ টাকা ৯২ পয়সা এবং বেইজমেন্টের জন্য ২০ টাকা ১২ পয়সা। ১৬৬তম কমিশন সভায় ৮ শতাংশ হারে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here